জুলাই ১৬, ২০১৫ ১১:২৭ অপরাহ্ণ

ভুল সবই ভুল, শেখ হাসিনাই মূল…


কুলাউড়া সংবাদ, বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০১৫ ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকার সাতদিনের মাথায় পুনরায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। এর আগে সৈয়দ আশরাফ লন্ডন চলে যাচ্ছেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল নতুন মন্ত্রণালয় পাওয়ার মধ্য দিয়ে সবকিছুরই অবসান ঘটলো। আর এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে বলে মনে করছেন কিশোরগঞ্জের মানুষ। একই সঙ্গে সরকারের কাছে তার গুরুত্ব আগের চেয়ে বেশি বাড়লো বলে মনে করছেন কিশোরগঞ্জবাসী।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক  বলেন, ‘সংবিধানের ৫৫ এর (এক) ধারায় প্রধানমন্ত্রীর অবারিত ক্ষমতাবলে মন্ত্রিত্ব নেই, মন্ত্রিত্ব আছে, মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার, আবার মন্ত্রিত্ব দেয়া- তা প্রধানমন্ত্রীরই এখতিয়ার। তিনি তার ক্ষমতাবলে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন করতে পারেন। সুতরাং সৈয়দ আশরাফের এই অব্যাহতির পর যে সমস্ত লোক প্রধানমন্ত্রী আর সৈয়দ আশরাফের পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলেছেন, তা ভুল, সবই ভুল। আসলে, শেখ হাসিনাই মূল।’

নতুন মন্ত্রণালয় দেয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ সাদী। তিনি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফ হচ্ছে এই সরকারের নিরাপত্তা প্রাচীরের প্রধান ফটক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সরকার প্রধান ছাড়া অন্য কারো কাছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হস্তান্তর করা হয় না। সেখানে, সৈয়দ আশরাফ সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাই আমরা কিশোরগঞ্জবাসী অনেক আনন্দিত। কারণ, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বর্তমান সরকারের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে, অব্যাহতির পর সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আহমেদ উল্লাহ। কিন্তু সৈয়দ আশরাফকে নতুন মন্ত্রণালয় দেয়ার পর তার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার আস্থাভাজন মানুষকে আরো বেশি মূল্যায়ন করেছেন। আমরা এ মন্ত্রণালয় দেয়াতে অনেক খুশি।’

দলীয় সাধারণ সম্পাদককে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেয়ার ঘটনায় নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে কিছুটা স্বস্তি। তবে সাতদিন আগে হঠাৎ করেই মন্ত্রণালয় থেকে সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দেয়ার আলোচনা পিছু ছাড়ছে না সাধারণ মানুষের। প্রত্যেকের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন, মন্ত্রণালয় যদি পরিবর্তন করতেই হতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে সুন্দর হতো।

এদিকে, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকার সাতদিনের মাথায় ফের সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের আপামর জনসাধারণ। তারা কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না ঘটনাটি। অনেকে এটাকে নাটকীয়তা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের বক্তব্য, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মত এমন একজন সৎ, যোগ্য ও মেধাবী রাজনীতিককে নিয়ে এমন নাটকীয়তার কোনো দরকার ছিল না। আর এ নাটকীয়তাকে সরকারের ভেতরের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ঘটনাটিকে সরকারের ভেতরে নাটকের অবসান হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আশরাফকে অব্যাহতি দেয়ার পর, সারাদেশে মানুষের মাঝে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, তার অবসান হলো আজ। শেষ পর্যন্ত সরকার, তার নাটকীয়তার অবসান ঘটালো।’

তবে, সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে সরকারের এমন নাটকীয়তা কোনো ভাবেই কাম্য হতে পারে না বলেও মনে করেন জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ওই নেতা।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই হঠাৎ করেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে সাতদিন থাকার পর তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

177 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ