ডিসেম্বর ১৬, ২০১৫ ১:২৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের বিজয়ের দিন আজ


১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে অপারেশন সার্চলাইট-এর মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশে শুরু করে গণহত্যা এবং এর ব্যাপ্তি ছিল দীর্ঘ নয় মাস। এ নয় মাসে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ লোককে নির্বিচারে হত্যা করে, লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়।

যে একাত্তরে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু করে সে একাত্তরেই বাংলাদেশ বিজয় ছিনিয়ে আনে। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। সে বছরের ১৬ ডিসেম্বর সেই অস্ত্রই পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে অপমানের গ্লানি মাথায় নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণ করে ৯৩ হাজারের বিশাল বাহিনী। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির বিজয় দিবস। এই মহান বিজয়ের ৪৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। বাংলাদেশ পা রাখল ৪৫ বছরে।

পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অমিততেজ মুক্তিবাহিনীর গৌরবদীপ্ত লড়াই আমাদের চিরদিনের অহংকার। ব্রিটিশদের নিষ্পেষণ থেকে পাকিস্তানিদের দুঃশাসনে বাঙালি যখন ‍অতিষ্ঠ, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। ছয়দফা আন্দোলনে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজউদ্দীন আহমেদ।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ, পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায়  ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শেরেবাংলা বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনাকেই বিকশিত করেছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদ এক মহাকাব্য আর সেই মহাকাব্যের নায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। আমৃত্যু আপসহীন লড়াকু শেখ মুজিব বাঙালির ভালোবাসায় সিক্ত একটি নাম, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির দিশারি, প্রতিবাদী ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। তিনি ছিলেন বীরত্ব, সাহস ও তেজস্বিতার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

দখলদার পাকিস্তানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম। স্বাধীনতার ৪৪ বছরে এসে আজ পাকিস্তান থেকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রেই অনেকটা এগিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতি আর প্রশংসা আসছে প্রতিনিয়ত। বিজয়ের এই মাসেই আমাদের অগ্রগতিকে ‘উড়ন্ত সূচনা’র সঙ্গে তুলনা করে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও যে অসম্ভব নয়, তা বলে গেলেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু।

স্বাধীনতার ৪৪ বছরের মাথায় পদ্মা সেতুর মতো বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে নিজেদের অর্থায়নে। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু রাশিয়া দু’হাত প্রসারিত করেছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ড পুনর্গঠনে। আজ সেই রাশিয়াই বাংলাদেশে গড়ে তুলছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র।

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ পেতে প্রতিযোগিতায় নামে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও কানাডার মতো দেশগুলো। গভীর সমুদ্রে বন্দর নির্মাণের কাজ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন, জাপানসহ নানা দেশ। শূন্য তহবিলে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ এখন ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে। বিশ্ব দরবারে স্বাধীন জাতি হিসেবে সম্মান বেড়েছে বহুগুণ। অগ্রযাত্রার এই সময়ে এসে ৪৪ বছর আগে বাংলাদেশের জন্য আত্মত্যাগ করা শহীদদের স্মরণ করছে পুরো জাতি।

বিজয় দিবস-রক্তস্নাত মহান বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় ক্ষণ।

মহান বিজয় দিবস ঊপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক বাণীতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বিজয় দিবসে আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ এরই মধ্যে জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় হয়েছে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সংবাদপত্র প্রকাশ করছে বিশেষ সংখ্যা। বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হওয়ায় এবারের বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি পালন করছে অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

188 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ