সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

ফেঞ্চুগঞ্জে মামলা জটিলতায় ১৩ বছর থেকে আটকে আছে ইউনিয়ন নির্বাচন


রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ॥ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন না-হওয়ার কারণে উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক ভোটার তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। নির্বাচন না-হওয়ার কারণে ভোটারদের মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভোটারদের অভিযোগ- ক্ষমতাকে দীর্ঘ স্থায়ী করতে চেয়ারম্যানরা মামলার আশ্রয় নিয়ে নির্বাচন হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জটিলতা নিরসনে কার্যকর কোন উদ্যোগ না-নেওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন হচ্ছেনা।

জানা জানায়- ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নকে ৫ টি ইউনিয়নে উন্নীত করা হয়। এই গেজেট নোটিফিকেশনে বর্ধিত ৫ নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে উত্তর ইসলামপুর গ্রাম অন্তর্ভুক্ত না-হওয়ায় ঐ গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল এ প্রকাশিত ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গেজেট নোটিফিকেশনকে অবৈধ ঘোষণা করলে বন্ধ হয়ে যায় ফেঞ্চুগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ২০০৩ সালের ১ মার্চ সর্বশেষ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চলাকালীন সময়ে গত  ৯ ফেব্রুয়ারি মানিককোনা গ্রামের আব্দুস সালাম নামক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে গেজেটে ত্রুটিজনীত কারণে দেখিয়ে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। রিট আবেদনের শুনানি শেষ উচ্চ আদালত গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ৩ মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।  ফলে ইউনিয়ন পরিষদের মতো মামলার বেড়াজালে আটকে যায় উপজেলা পরিষদের নির্বাচনও।

ফেঞ্চুগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় সরকারের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না-হওয়ায় ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এই প্রজন্মের অনেক ভোটার এখন পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা খায়ের আহমদ খান বলেন- ভোটার হওয়ার কয়েক বছর হলো এখন পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। মামলার কারণে  ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলো না। ভাবলাম সংসদ নির্বাচনে ভোট দেব। সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকার আর নির্বাচন হয়নি।

ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে এবং চেয়ারম্যান পদে দীর্ঘসময় থাকার অসৎ উদ্দেশে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জোট হয়ে তাদের অনুগত ব্যক্তিকে দিয়ে মামলা দিয়ে ইউনিয়ন নির্বাচন আটকে দিয়েছেন। এটা গণতন্ত্র বিরোধী কাজ।

উপজেলার রাজনপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ জেবুল আহমদ বলেন- তফসিল ঘোষণার পর একই কায়দায় উপজেলা নির্বাচন আটকে দেওয়া হলো। প্রশাসন আইনি জটিলতা নিরসন করতে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। দীর্ঘদিন থেকে আমরা ভোট উৎসব থেকে বঞ্চিত রয়েছি।

গংগাপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন- দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় সরকারের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন না-হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের গাছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা অমনোযোগী হয়ে পড়েছেন। নির্বাচন হলে এটা থাকতো না।

ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদ বলেন- আমরা জোট হয়ে নির্বাচন বন্ধ করিনি। আমরা (চেয়ারম্যানরা) কোন মামলার বাদি নয়। কেউ যদি তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আদালতের শরনাপন্ন হয় তা হলে আমাদের কিছু করার নেই। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করতে ইতিমধ্যে উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। আইনি সমস্যা সমাধান করতে সময়তো লাগবে।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইউএনও হুরে জান্নাত বলেন- অচিরেই আইনি জটিলতা নিরসন করে নির্বাচনী বাধা দূর করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

487 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ