জানুয়ারি ২১, ২০১৬ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী আসছেন আজ : উন্নয়নের ঘোষণা চান সিলেটবাসী


আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরে আসছেন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় আছেন এ অঞ্চলের কোটি মানুষ। শুধু দাবি নয়, সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেগুলোরও বাস্তবায়ন চান সিলেটবাসী।

সিলেটের বিশিষ্টজনরা আশা প্রকাশ করছেন- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার উপর নির্ভর করছে আগামীর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, এমসি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মদনমোহন কলেজকে সরকারিকরণ, চা শিল্পের উন্নয়নে প্রদক্ষেপ ও ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বন্দর করার। এছাড়া স্পেশাল ইকোনমিক জোন, হাওর উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণের দাবি করেছেন সিলেটবাসী। পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-তামাবিল সড়ককে মহাসড়কে উন্নীতকরণ এবং ছাতকের সুরমা নদীতে ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন।

সাত বছর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় গেলে তিনি সিলেটের উন্নয়নের জন্য ‘মহাপকিল্পনা’ গ্রহণ করবেন। নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনেই মহজোট প্রার্থীদের বিজয়ী করেন সিলেটবাসী। সিলেটের শিক্ষার উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানী সংকট, চা শিল্প ও হাওর-বাওর উন্নয়নে তার সরকার কার্যকরী ও বাস্তবমুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সিলেটকে আরও এগিয়ে নিতে এই মুহূর্তে বেশ কয়েক দফা দাবি সিলেটবাসীর। এসব দাবি পূরণে বড় কোনো বাজেটের প্রয়োজন না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবির সুরাহা আশা করবেন সিলেটের মানুষ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর পথ চেয়ে বসে আছেন দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকার মানুষ।

বর্তমান সরকারের আমলেই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গতা পেয়েছে। সিলেটের মানুষের বিশাল একটি আশাআকাক্সক্ষা পূরণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রূপ লাভ করায় এখন লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে আসতে পারছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন এ রুটে কয়েকশ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রূপলাভ করলেও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও সিলেটের মানুষের কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। বাংলাদেশের আরেক শহর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উড়োজাহাজ যাতায়াত করলেও সিলেটবাসী এখনও বাংলাদেশ বিমাননির্ভর। আর লন্ডনের যাত্রীরা সরাসরি বৃটেন থেকে সিলেটে আসতে পারলেও এখন সিলেট থেকে সরাসরি নিজ শহর থেকে যাত্রা করতে পারেননি। ঢাকা হয়ে তাদের যেতে হচ্ছে বহির্বিশ্বে। পাশাপাশি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি এসে নামতে পারেনি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রচেষ্টায় বিমানবন্দর এলাকায় রিফুয়েলিং সিস্টেম চালু হলেও বাইরের কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি না আসায় হতাশ হয়েছেন এ অঞ্চলের প্রবাসীরা।

গেলো ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাই কোম্পানির একটি উড়োজাহাজ সরাসরি দুবাই থেকে সিলেটে এসেছিল। কিন্তু গ্রাউন্ড জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ফ্লাই দুবাই কোম্পানি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর ফ্লাইট অপারেট করেনি। এয়ার এরাবিয়া নামের উড়োজাহাজ কোম্পানি ওসমানীতেও ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু দু’টি কোম্পানির উড়োজাহাজই গ্রাউন্ড সার্ভিস জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সিলেট থেকে তাদের ফ্লাইট গুটিয়ে নেয়। ওই সময় ফ্লাই দুবাই ও এয়ার এরাবিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল- তারা বাংলাদেশ বিমানের কাছ থেকে গ্রাউন্ড সার্ভিস পাচ্ছে না। দীর্ঘদিনেও সরকারের পক্ষ থেকে এই জটিলতা কাটাতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

কানাডা ও আমেরিকায় সিলেটের প্রচুর সংখ্যক যাত্রী রয়েছেন। লন্ডনের যাত্রীরা সরাসরি সিলেটে গেলেও আমেরিকা কানাডার যাত্রীরা সে সুবিধা পাচ্ছেন না। লাখ লাখ প্রবাসীর স্বার্থ বিবেচনা করে বিষয়টির দ্রুত সমাধান দেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ এখনও কলেজেই রয়ে গেল। সরকারের ঘোষণা রয়েছে- প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। কিন্তু সে আশা এখনও পূরণ হয়নি সিলেটবাসীর। ইতিমধ্যে রাজশাহী ও চট্টগ্রামবাসী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেও সিলেটে এখনও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ কারণে সিলেটে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান ব্যহত হচ্ছে। এখনও জটিল রোগের চিকিৎসা সেবার জন্য সিলেটের মানুষকে দৌড়াতে হয় রাজধানীতে ঢাকাতে। আর বিশ্ববিদ্যালয় না হয় অনেক ভালো মানের ডাক্তারও সিলেটে থাকছে না। সিলেট মহানগরীর উত্তর অংশের প্রায় ৬ লাখ মানুষের জন্য মাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থেকে দূরবর্তী স্থানে আগুন লাগলে তা ছড়িয়ে পড়ার বহু পরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে করে মানুষের জানমালের ক্ষতি হচ্ছে প্রচুর। এই অবস্থা কাটাতে ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সিলেট মহানগরীর জন্য আরও ৪টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাবনা এখনও প্রস্তাবনা আকারে রয়েছে। সরকার থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে- সিলেট মহানগর আখালিয়া, খাদিমপাড়া, বিমানবন্দর সড়ক ও উপশহরে চারটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। যেসব স্থানে ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা রয়েছে সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেও দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সিলেটবাসীর অন্যতম দাবি- রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এজন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেললাইনকে ডাবল লাইনে উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণা অনুযায়ী আখাউড়া এলাকায় বাইপাস নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু পরে সেটি আর পূরণ হয়নি। বর্তমান সরকারেরও প্রস্তাবনায় সেটি রয়েছে। কিন্তু এখনও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টঙ্গি থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইন স্থাপনের কাজ চললেও সিলেটে ডাবল লাইন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এদিকে, ডাবল লাইন না হওয়ার কারণে সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত দ্রুততম ট্রেন সার্ভিস শুরু হয়নি। সিলেটবাসীও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডাবল লাইনের দাবি ইতিমধ্যে তুলেছেন। ওদিকে, ২০০৪ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ফোর লেন স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দুই লাইনেই কাজ সমাপ্ত করা হয়। ফলে ফোর লেন নির্মাণের দাবি অপূরণই থেকে গেলো। এই অবস্থায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও সিলেটে এ সড়কপথটি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে।

এ কারণে দুর্ঘটনা কমাতে ইতিমধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর উন্নয়নে সবসময় আন্তরিক। সিলেটবাসী আশা করছেন দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলের প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

293 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ