ডিসেম্বর ১, ২০১৫ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

পৌর নির্বাচনে কৌশলী জামায়াত, পাশে থাকবে বিএনপি


আসন্ন পৌর নির্বাচনে আদালতের রায়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই। তবুও ২৩৬টি পৌরসভার মধ্যে ১০০টিতে প্রার্থী বাছাই করেছে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে শীর্ষ নেতাদের বিচারে বিপর্যস্থ এ দলটি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কৌশলে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীও দিচ্ছে দলটি। শুধু তাই নয় যেসব পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

 

জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের নির্ধারিত ১০০ পৌরসভার মধ্যে তারা ৩০টি পৌরসভায় মেয়র পদে জয়েরও সম্ভাবনা দেখছে তারা। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মেয়র পদ ভাগাভাগির বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে ৫০ পৌরসভায় মেয়র পদে জোটের সমর্থন চেয়েছিল জামায়াত। শেষ পর্যন্ত ২০টিতে ছাড় দেয় জোটের প্রধান শরীক বিএনপি। এবারও জামায়াতের দাবি ৫০ পৌরসভা। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন পত্রও সংগ্রহ করেছে। তারা কৌশলে নির্বাচনী কার্যক্রমও শুরু করে দিয়েছে।

 

দলীয়ভাবে এবারই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত দলগুলোর নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ আছে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা দেয়। এর বিরুদ্ধে জামায়াত আপিল করলেও, পৌর নির্বাচনের আগে এ ইস্যুর চূড়ান্ত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

 

ওই সূত্র আরো জানায়,নির্বাচনে অংশ নেয়ার মূল উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা। প্রায় সব পর্যায়ের নেতা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে আছেন। নির্বাচনকে উপলক্ষ করে মাঠ পর্যায়ে কিছু কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

 

জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপ দিচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে লিখিত চিঠি দিয়ে তৃণমূল থেকে দাবি করা হয়েছে,স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তারা জয়ী হবেন।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও তারা নির্বাচনের পক্ষে। কারণ স্থানীয় জনগণ তাদের পক্ষে রয়েছে।

 

পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আগ্রহী নন। এতে দলীয় স্বকীয়তা থাকে না। তাছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করলেও জামায়াতের নিজস্ব অর্জন হিসেবে গণ্য হবে না। বিএনপির জনপ্রিয়তা বলে প্রচার পাবে। তবে কেন্দ্র থেকে বড় ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়বে বলে জানান জামায়াতের প্রার্র্থীরা।

 

নীলফামারী জেলার একটি পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা জামায়াতের এক প্রার্থী বাংলামেইলকে জানান, তিনি দলীয় নির্দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এক বলেন, প্রতিকূল অবস্থা মেনে নিয়েই জামায়াত মাঠে আছে এবং থাকবে। পৌর নির্বাচনে ছাড় দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। দলীয় প্রতীকে না পারলে অন্য যেকোনো প্রক্রিয়ায় দলের প্রার্থীরা ভোটের লড়বে।

 

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক  এবং দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বাংলামেইলকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌর নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক থেকে ২০ দলীয় জোট নেত্রীকে পৌর নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানে নেত্রী পৌর নির্বাচনে সমন্বয়কারী হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, আমাকে (আসাদুজ্জামান রিপন) এবং জামায়াতের আবদুল হালিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থীদের একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে। জামায়াত বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে অংশ নিবেন কী না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

এব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর যেহেতু নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, সেহেতু দলটি এখন অবৈধ। তবে জামায়াতে ইসলামী এখন পৌর নির্বাচন স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নিবে। বিএনপি তাদেরকে সমর্থন দিবে। আবার জামায়াতও বিএনপির প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

332 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ