জুলাই ১২, ২০১৫ ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

নতুন করে ইমেজ সঙ্কটে আওয়ামী লীগ


কুলাউড়া সংবাদ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০১৫ ::
সিনিয়র ক’জন নেতার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঈদের আগ মুহূর্তে নতুন করে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা বিশ্লেষণ। এর মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী এমপিসহ কয়েকজন ডাকসাইটে নেতা। দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভুল-ভ্রান্তিগুলো ছোট বড় যাই হোক, সরকারকে বিড়ম্বনা ঠিকই পেতে হয়। তাই অনেকেই অদল-বদলের আর ছাঁটাই-বাছাইয়ের লিস্টে। কোন নেতা কখন মন্ত্রিত্ব বা পদ-পদবী হারাবেন এ নিয়েও দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা।গত ৭ জুলাই একনেকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে দেখা দেয় জটিলতা। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি যেহেতু মিটিং-টিটিংয়ে আসেন না, সেহেতু ওনাকে সরিয়ে দিলে ভালো হয়।’ এরপর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেন।
পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থানে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এতে করে আওয়ামী লীগের মধ্যে মন্ত্রিত্ব ও পদ-পদবী কার কখন হারাতে হয় সেই আশঙ্কার মাত্রা আরো বেড়ে গেছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধভাবে ৬ কোটির বেশি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালত তার দ- বহাল রেখেছে। ফলে মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ২ লাখ টন গমের কার্যাদেশ পায় ইমপেক্স ইন্টারন্যাশনাল এবং ওলাম ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন নিম্নমানের, খাওয়ার অযোগ্য গম আমদানি করে। ওই আমদানি করা পচা ও পোকায় খাওয়া গম নিয়ে মন্ত্রিত্ব থাকবে কী থাকবে না, তা নিয়ে চিন্তিত কামরুল ইসলামও। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়ার পর আসলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মায়া এবং খাদ্যমন্ত্রী কামরুল আরো ভীত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের অনেকেই আশঙ্কায় রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

গত বছর সাবেক আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী লন্ডনে বসে হজ নিয়ে মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও সম্প্রতি ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি ৭ জুলাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি থাকবে না, এমন একটি চিঠি দিয়েছে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে। এ বিষয়েও খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

এছাড়া সম্প্রতি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার আলম রনির আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় দেশব্যাপী চলছে আলোচনার ঝড়। গত ১০ জুন ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল হকের কাছে রনির বন্ধু কামাল মাহমুদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, ওই দিন গাড়ি থেকে পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি গুলি ছুড়েছিলেন। এরপর থেকেই মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার আলম রনির জোড়া খুনের ঘটনা সরাদেশে সাড়া ফেলে।

এত কিছুর মধ্যে আবার নিজেদের সবচেয়ে আস্থাবান ব্যক্তিকে এভাবে মন্ত্রিসভা থেকে বের করা নিয়ে চিন্তিত দলের ভেতরের সিনিয়র নেতারাই। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার থেকে সরিয়ে দেয়ায় এই মুহূর্তে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে দলটি। ফলে দলের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।

এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে চান না। আর সরকার চালাতে হলে অনেক ঘটনাই সামনে আসে। আবার সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। এখানে ভাবমূর্তি সংকটের কি আছে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কে থাকবেন, কে থাকবেন না তা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপার। অন্যদের বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চান না। আদালত আছে। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি সংকটের কি আছে? দল তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আশরাফুল ইসলাম দলের সাধারণ সম্পাদক। তাকে নিয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কে হবেন তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। এতে দলের ভাবমূর্তি সংকট হবে কেন?’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই জানেন।-যায়যায়দিন –

নিউজটি শেয়ার করুন

178 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ