জানুয়ারি ২৭, ২০১৬ ৭:১৫ অপরাহ্ণ

দুর্নীতিতে বাংলাদেশের হ্যাট্রিক


দুর্নীতি ধারণা সূচকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পর পর তিনবছর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের সাতটি দেশের মধ্যে বরাবরই সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা ভালো অবস্থানে আছে ভূটান এবং আফগানিস্তান রয়েছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে। আফগানিস্তানের পরে অবস্থানেই বাংলাদেশ।

এ অঞ্চলের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে নিচের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থান নেপালের। সূচকে চতুর্থ অবস্থানে আছে পাকিস্তান, পঞ্চমে শ্রীলঙ্কা এবং ষষ্ঠতে আছে ভারত। অপরদিকে এই অঞ্চলের মধ্যে ২০১১ সালের পরে মালদ্বীপকে দুর্নীতি ধারণা সূচক বিবেচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বুধবার রাজধানীতে বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইয়ের বাংলাদেশ শাখা টিআইবি দুর্নীতির ধারণা সূচকের (সিপিআই) ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের দুর্নীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে। সূচকে ডেনমার্ককে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার এই চিত্রে দেখা যায়,  ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম আছে। ২০১৩ সালে ২৭ স্কোর পেয়ে বিশ্বের ১৭৭টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ১৬তম। যেখানে আফগানিস্তানের স্কোর ছিল মাত্র ৮ এবং ৬৩ স্কোর পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথমে (ভালোর দিক থেকে) ছিল ভূটান। ২০১৪ সালেও ১২ স্কোর নিয়ে এই অঞ্চলের তলানিতে ছিল আফগানিস্তান, ২৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় তলানীতে ছিল বাংলাদেশ এবং একই বছর ৬৫ স্কোর নিয়ে বরাবরই প্রথম ছিল ভূটান।

এমনকি ২০১৫ সাল তথা সর্বশেষ জরিপে আবারো সেই ২৫ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ১১ স্কোর নিয়ে প্রথমে আফগানিস্তান। একইভাবে এই তিন বছর পাকিস্তান ও নেপালকে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে উঠানামা করতে দেখা গেছে এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে দেখা গেছে শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে। তবে সারা বিশ্বের ১৬৭ দেশের মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পাকিস্তানের চাইতে ২১ ধাপ এখানো নিচে আছে বাংলাদেশ।

এসময় টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চলনায় আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান এবং উপনির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

246 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ