জুলাই ৭, ২০১৫ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ?


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। আজ মঙ্গলবারই এ ব্যাপারে ঘোষণা আসতে পারে। সচিবালয় সূত্র বাংলামেইলকে এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

জানা গেছে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবর্তে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।

পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বাংলামেইলকে জানান, সৈয়দ আশরাফকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে থেকে সরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। দুপুরে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যদিও সৈয়দ আশরাফের অব্যহতি প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কিছু হলে আপনারা জানবেন। আপনাদের দেয়ার মতো কোনো ইনফরমেশন নেই।’

এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের বৈঠকেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর কথাও বলেন প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি তদারকি করার জন্য আরো অ্যাকটিভ মন্ত্রী দরকার। উনি (সৈয়দ আশরাফ) প্রায় বৈঠকেই অনুপস্থিত থাকেন, তাকে দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ পুরোপুরি হচ্ছে না। এ কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।’

যদিও কাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু জানাননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ প্রকল্পটি আজকের একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৈয়দ আশরাফ অনুরোধও করেন তাকে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আশরাফকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন, ‘স্যারকে (খন্দকার মোশাররফ হোসেন) এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো লিখিত কোনো প্রজ্ঞাপন পাইনি।’

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের গত শাসনামলে রেল মন্ত্রণালয়ের আলোচিত ‘কালো বিড়াল’ কেলেঙ্কারির জেরে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন বর্ষিয়ান সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তাকে অব্যাহতি দেয়ার পর ওবায়দুল কাদের এবং পরবর্তীতে মুজিবুল হককে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। বাকি সময়টা দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিণতিই সেই দিকেই গড়াচ্ছে।

সুত্রঃ বাংলা মেইল

নিউজটি শেয়ার করুন

155 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ