জুলাই ৭, ২০১৬ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

তবু আনন্দ, তবু উৎসব


গুলশানে বাংলাদেশের ইতিহাসের নৃশংসতম জঙ্গি হামলার ঘা এখনো শুকায়নি। এখনও মুছে যায় নি রক্তের দাগ। পুরো জাতি আজ শোকগস্ত্র। এমন সময়ে এসেছে ঈদ। আনন্দের ঈদ। কবি নজরুলের ভাষায় ‘হাতে হাত মেলানোর’ ঈদ।

একমাসের সিয়াম সাধনার পর আজ ঈদ উৎসবে মেতে উঠবে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়। এই নিদারুণ হতাশার সময়েও ঈদের আনন্দে মেতে উঠবে সবাই।

নানাবিদ দুঃখ কষ্টে ভরা আমাদের জীবন। চারদিকে হতাশা, খুন, জখম, হানাহানির মধ্যেই এখন আমাদের বসবাস। তার উপর সম্প্রীতির বাংলায় নতুন করে শুরু হয়েছে উগ্রবাদীদের আস্ফালন। ধর্মের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিয়ে খুনোখুনিতে মেতে উঠেছে তারা। যার সম্প্রতিকতম শিকার গুলশানের রেস্টুরেন্টের নীরিহ মানুষগুলো।

এমন হতাশার সময়ে বাংলাদেশে খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে ঈদ।

মানুষ এক আশ্চর্য ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণী। অফুরান দুঃখের মাঝেও সে আনন্দের রসদ খুঁজে বেড়ায়। হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে নতুন আশায় জেগে ওঠে। জীবন তো আনন্দে। উৎসবে। ভিন্নমতের চর্চায়।

কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছিলেন, -‘তোমাকে বাঁচাতে পারে আনন্দ । তুমি তার হাত ধরো,/
তার হাত ধরে নাচো, গাও, বাঁচো, ফুর্তি করো ।/ দুঃখকে স্বীকার করো না, মরে যাবে, ঠিক মরে যাবে।/…যদি মরতেই হয় আনন্দের হাত ধ’রে মরো।/বলো, দুঃখ নয়, আনন্দের মধ্যেই আমার জন্ম,/আনন্দের মধ্যেই আমার মৃত্যু, আমার অবসান।’

আনন্দের মধ্যেই বাঁচুক মানুষ। দূর হোক দুঃখ, হতাশা আর উগ্রবাদের আস্ফালন। আবাহমানকাল ধরে হিন্দু-মুসলিমসহ নানা জাতি-ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাসবাস করে আসছে এই ভূখন্ডে। একে অপরের উৎসবে শামিল হয়েছে। দুঃখে সমব্যাথী হয়েছে। এই ভূখন্ড উগ্রবাদের নয়। সুফি সাধক আর বৈষ্ণব সাধকরা তাদের প্রেমের বাণী নিয়ে এখানে ধর্মের প্রচার করেছেন। এই ভূখন্ড জঙ্গিগোষ্ঠির চারণভূমি হতে পারে না।

এই ঈদ উৎসব পালিত হোক হোক জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধের শপথেও। সকল দুঃখকে হটিয়ে আনন্দে ফিরুক জীবন।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন- ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।’

এই উৎসবেও সকল ক্ষুদ্রতা ভুলে মহৎ হয়ে উঠুক মানুষ। তার মনুষ্যত্বের শক্তিকে অনুভব করুক।
জীবন হোক আনন্দময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

425 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ