ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

এ শীতে হামহাম জলপ্রপাত


কুয়াশায় মোড়ানো শিশির জড়ানো এই শীতে দল বেঁধে কিংবা প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে দেখে আসতে পারেন নয়নাভিরাম হামহাম জলপ্রপাত। পাবেন সৌন্দর্য দর্শন ও অ্যাডভেঞ্চারেরের যুগলবন্দী।  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটে অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত এই জলপ্রপাত।

কুরমা বনবিটের আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। বনবিটের সবুজ পাহাড়ের পশ্চিম দিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। এ বনাঞ্চলটি ঢাকা থেকে ২৬০ কিমি ও কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৩০ কি.মি দক্ষিণ-পূর্বদিকে অবস্থিত। কমলগঞ্জ থেকে ১ ঘণ্টায় লোকাল বাস, জিপ বা প্রাইভেটকার নিয়ে চাম্পারায় চা বাগানে পৌঁছে যাবেন। কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত পাকা সড়ক থাকলেও  সেখান থেকে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত মাটির রাস্তা। সেখান থেকে প্রায় ৫ কি.মি গেলেই তৈলংবাড়ির ত্রিপুরা পল্ল¬ী। অটোরিক্শায় গেলে তৈলংবাড়ি পর্যন্ত অনায়াসে পৌঁছা যাবে।

6262567869_12a8790074_b

তৈলংবাড়ির আদিবাসীদের সাহায্য নিয়েই হামহাম যেতে হবে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর দেখবেন পাহাড় থেকে ধোঁয়ার মতো ঘন কুয়াশা ভেসে ওঠার অপূর্ব দৃশ্য। ওই পাহাড় আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। হাঁটতে হাঁটতে গভীর বন-জঙ্গল পেরিয়ে আপনি একসময় পৌঁছে যাবেন কলাবন চা শ্রমিক বস্তিতে। প্রায় ৮ কি.মি দুর্গম পাহাড়ের গায়ে হামহাম জলপ্রপাত যাওয়ার সহজ রাস্তাটি স্থানীয়রা আপনাকে বলে দেবে। কলাবনপাড়া থেকে রওনা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জারুল ও বেত বাগানে দেখা পাবেন বানরের দল। জারুল, চিকরাশি ও কদমের সারির ফাঁকে ফাঁকে হাজারও প্রজাপতি ডানা মিলিয়ে ওড়ে যাচ্ছে, দূরে বহুদূরে।

এছাড়া ডলু, মুলি, মিটিংগা, কালি ইত্যাদি অদ্ভুত নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের সঙ্গে পরিচিত হবেন। কিছু জায়গায় জংলি কলাগাছ দেখে মনে হবে কে যেনো সুশৃক্সক্ষল ও সারিবদ্ধভাবে লাগিয়ে রেখেছে এগুলো। ঝিরিপথে হেঁটে যেতে যেতে চোখে পড়বে ডুমুর গাছের শাখায় চশমা বানরের দল। এ পথে পাথরের ওপর হাঁটা খুবই কঠিন ও কষ্টকর। মাঝে-মধ্যে কোমর পানি আর তলদেশ সিমেন্টের ঢালাইয়ের মতো কঠিন ও খুবই পিচ্ছিল।

তাই হাঁটার সুবিধার জন্য একটি করে বাঁশের লাঠি হাতে নিতে হয়। ঝিরিপথে শুধু হাঁটাচলায় কঠিন নয়, ডানে-বামে তাকানোও মুশকিল। তারপরও আপনি উপভোগ করা মতো অনেক কিছু পাবেন। সুমধুর পাখির কলরবে মন ভরে যাবে। দূর থেকে কানে ভেসে আসবে বিপন্ন উল্লুক ও অন্যান্য প্রাণীর ডাক। এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে একসময় আপনি পৌঁছে যাবেন হামহাম জলপ্রপাতের কাছাকাছি। শুনতে পাবেন হামহামের শব্দ। কাছে গিয়ে দেখতে পাবেন প্রায় ১৩০ ফুট উচ্চতা থেকে পানি ঝরে পড়ার মোহনীয় দৃশ্য। সেখানে কিছুক্ষণ কাটানোর পরই নিতে হবে ফেরার প্রস্তুতি। কারণ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে পাহাড়ি অন্ধকারে রাস্তা হারিয়ে ফেলার আশংকা বেশি। বন্যপ্রাণীদের আক্রমণেরও শিকার হতে পারেন। ঢালু ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে ওঠা কষ্টকর, কিন্তু নিচে নেমে আসা আরও বিপজ্জনক ও কঠিন। তাই সবাই কাছাকাছি থাকুন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর আপনি পৌঁছে যাবেন কলাবনে।

হামহামে যেতে কমলগঞ্জ বা শ্রীমঙ্গল শহর হতে গাড়িভাড়া করতে হবে ভোর ছ’টার মধ্যে। সাথে খাবার পানি নিতে হবে। নতুবা পানির তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে যাবে। পাশাপাশি সাথে শুকনো খাবার নেয়া জরুরি।  তাহলে চাম্পারার চা বাগানে কলাবনপাড়ায় পৌঁছতে পারেন সাড়ে সাত বা আটটার মধ্যে। কলাবনপাড়া হতে হামহাম জলপ্রপাতে যেতে এবং ফিরে আসতে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। যারা এ ধরণের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, মনোরম পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়া সুন্দর জায়গায় যেতে চান তারা চলে যেতে পারেন এ জলপ্রপাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ