এপ্রিল ২৭, ২০১৬ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

এবার চা উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা


মৌসুমের শুরুতেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার দেশে চা উৎপাদনের লক্ষামাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিস্টরা। গত বছরও দেশে চায়ের রেকর্ড পরিমান উৎপাদন হয়। ২০১৫ সালে দেশে চা উৎপাদন হয় ৬৭ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন কেজি। এবছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ মিলিয়ন কেজি। চায়ের মোট উৎপাদনের ৯৫ শতাংশই সিলেটের বাগান থেকে উৎপাদিত হয়।

চা উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্তদের আশা, মৌসুমের শুরুর মতো অনুকুল আবহাওয়া বছরজুড়ে অব্যাহত থাকলে এ বছর চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এপ্রিল থেকে চা উৎপাদন শুরু হয়। গত কয়েকবছর থেকেই বছরের এই সময়ে তীব্র খরায় ব্যাহত হয় উৎপাদন। এবছর এপ্রিলের শুরু থেকেই সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যা চা উৎপাদনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, চলমান এপ্রিল মাসে সিলেটে এ পর্যন্ত ৮৫২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সারাদেশে যখন বৃষ্টির জন্য হাহাকার, তখন প্রতিদিনই প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে সিলেটে। এ মৌসুমে আরো বৃষ্টিপাত, এমনকি বন্যারও শঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সিলেট অঞ্চলে আগেভাগেই চায়ের পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। অন্যান্য বছর এপ্রিলে থেকে  চায়ের পাতা উত্তোলন শুরু হলেও এবার মার্চের শেষদিক থেকেই সিলেটের সবকটি ভ্যালির বেশিরভাগ বাগানে পাতা উত্তোলন শুরু হয়। পাতা উত্তোলন আগেভাগে শুরু হওয়ায় এবার চায়ের নিলামও শুরু হচ্ছে আগেভাগেই। ২৬ এপ্রিল (মঙ্গলবার) চট্টগ্রামে চায়ের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি ও খাদিমনগর টি এস্টেট’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশীদ চৌধুরী বলেন, এবছর আমরা অন্যান্য বছরের চাইতে সপ্তাহখানেক আগেই উৎপাদন শুরু করতে পেরেছি। অনুকুল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আশা করছি এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দেশের ১৬২ টি চা বাগানের  মধ্যে সিলেট বিভাগে ১৩১ টি বাগান রয়েছে। এরমধ্যে মৌলভীবাজারে ৯০টি, হবিগঞ্জে ২৩টি ও সিলেট জেলায় ১৮ টি বাগান রয়েছে।

চা বোর্ড সূত্র জানায়,  ২০১৫ সালে দেশে চা ৬৭ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন কেজি, ২০১৪ সালে ৬৩ দশমিক ৮৮ কেজি ও ২০১৩ সালে ৬৬ দশমিক ২৬ কেজি চা উৎপাদন হয়।

সিলেটের মালনীছড়া ছড়া, লাক্কাতুরা, খাদিমহস কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, পূর্ণ উদ্যোমে চলছে চায়ের উৎপাদন। শ্রমিকরা ব্যস্ত পাতা উত্তোলনে। কারখানাগুলোতে চলছে সেই পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত পাতা উত্তোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চা বাগান ব্যবস্থাপনা সেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাজান আখন্দ বলেন, চা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাত জরুরী। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিও ক্ষতিকর। বাগানে সার দেওয়া যায় না। বিশেষত শিলাবৃষ্টি হলে কচি পাতা ঝড়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চা উৎপাদনের অনুকুলে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি চলতি বছর চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যামাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ বছর চা উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ৭০ মিলিয়ন কেজি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরমধ্যে সিলেট বিভাগেই ৯৫ শতাংশ চা সিলেটে উৎপাদন হয়। বালিশিরা ও লস্করপুর ভ্যালি থেকেই চায়ের মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

205 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ