জুন ২৮, ২০১৬ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

আবার চালু আলী আমজদের ঘড়ি


কুলাউড়া সংবাদ :: ফের সংস্কার করা হচ্ছে নগরীর ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়ি। পরীক্ষামূলকভাবে ইতোমধ্যে ঘড়িটি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন।

এরআগে কয়েকদফা সংস্কার কাজ করা হলেও কিছুদিন পরই আবার নষ্ট হয়ে পড়ে এ ঘড়ি। সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, ঘড়িঘরের ফাঁকফোকর দিয়ে পাখি ঢুকে অপারেশনাল ডিভাইস নষ্ট করে ফেলত। এ কারনেই ঠিক করার কিছুদিন পর পর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকত। তবে এবার পাখি ঢুকার পথ বন্ধ করে নতুন ভাবে সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের পর পরীক্ষামূলকভাবে ফের চালুও হয়েছে এটি। আলী আমজদের ঘড়ি সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আলমের কাছ থেকে এমনটাই জানা গেল।

সিলেটের কয়েকটি ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম সুরমা তীরের আলী আমজদের ঘড়িঘর। ঘড়িঘরের নান্দনিক স্থাপত্য মানুষকে আকৃষ্ট করলেও ঐতিহ্যবাহী ঘড়িটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে থাকে। চলতি বছরের জুন মাসের শুরুর দিকে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সংস্কার কাজ শুরু হয়। ৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ঘড়িটির সংস্কারের কাজ পায় ঐশি ইলেক্ট্রনিক্স। সিসিকের সূত্রে জানা যায়, দেড় বছরের রক্ষনাবেক্ষনের চুক্তিতে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আলম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘড়িঘরের ফাঁকফোকর পাখি ঢুকে ঘড়ির বিভিন্ন ডিভাইস নষ্ট করে ফেলায় কিছু দিন পর পর এটি বিকল হয়ে যেত”।

তিনি বলেন, “এখন সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করা হয়েছে, আশা করি কদিন পর পর আর বিকল হবে না”।

উল্লেখ্য, ১৪২ বছর আগে অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড নর্থ ব্রুককে সিলেটে স্বাগত জানাতে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি ও এই ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন জমিদার আলী আহমদ খাঁ। পরে আলী আহমদ নিজ পুত্র আলী আমজদের নামে নামকরণ করেন এই ঘড়ির।

তখন থেকেই সিলেটের পরিচিতির সাথে জড়িয়ে আছে এই ঘড়িঘর। শোনা যায় এক সময় পুরো সিলেট শহরের মানুষ এই ঘড়ির ঘন্টার শব্দে দিনের কার্যক্রম চালাতেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘড়িঘরটি। ঝরে পড়ে ঘড়ির সময়-কাঁটা। নষ্ট হয় ভেতরের যন্ত্রপাতি। এরপর ১৬ বছর ধরে নিস্তব্ধ ছিল এটি। ১৯৮৭ সালে প্রবাসীদের উদ্যোগে  ফের সচল করা  হয় ঐতিহ্যবাহী ঘড়িটি। পরে বিভিন্ন সময়ে অকার্যকর হয়ে পড়লেও ২০১৩ সালের দিকে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবার চালু করা হলেও বছর খানেকের মধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ