সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ১১:৩২ অপরাহ্ণ

আজ থেকে আমরা আরো কাছে এলাম


ডেক্স রিপোর্টঃ ২০১৮সালের ১০ সেপ্টেম্বর সোমবারের বিকেল যেন কুলাউড়াবাসীর স্বপ্ন পূরনের দিন। এক সময়ের ‘লাতুর ট্রেন’ আবারো যাত্রী বহনের সক্ষমতা নিয়ে সামনে এলো। ট্রেন ও বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন ‘আজ থেকে আমরা আরো কাছে এলাম, সম্পর্ক আরো গভীর হলো।’ উচ্ছসিত বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য মন্ত্রীরাও। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাওয়ার কথা শুনা গেল দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতায় দু’দেশের পথ চলায় পাশে থাকার কথাও পুর্নব্যক্ত করেছেন মোদি-হাসিনা।
সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ভারতের দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্প এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ৫০০ মে.ওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সুইচ টিপে রেল সংযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগনের মধ্যে যাতায়াতের পথ সুগম হওয়ায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার মানুষের মধ্যে। সাধারণ মানুষ বলছেন সিলেট অঞ্চলের সাথে প্রতিবেশি দেশে পাড়ি দেয়ার সহজ ও আরামদায়ক যাত্রার সুযোগ তৈরি হওয়ায় যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দু’দেশের মানুষের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের এ মাহেন্দ্রক্ষন দেখলো দু’দেশের লক্ষ কোটি মানুষ। ভিডিও কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষন ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডের মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে। ভারত থেকে এ বিদ্যুৎ আমদানি করায় বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটিয়ে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন এ প্রকল্প উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আরো পরিপক্ষ হলো। আমরা সু-সম্পর্ক বজায় রেখেছি। বক্তব্যে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ, পারমানবিক ও অবকাঠামো সহায়তায় ভারতের প্রশংসা করে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। বিদ্যুৎ খাতে তার সরকারের গত সাড়ে ৯ বছরে ৩শ মে.ওয়াট থেকে ২০ হাজার মে.ওয়াটে উন্নীত করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ভারত থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে সাড়ে ৯হাজার মে.ওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করবে। সম্পর্কের ধাবাহিকতায় ভারতের সাথে আরো ৫৫টি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মো. মাহমুদ আলী ও ভারতের বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নেতৃত্ব দেন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দে নিজ নিজ কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রী উন্নয়নের পথে দু’দেশের এ সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ ও রেল লাইন সংযোগের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের জনগনের ও সরকারের মধ্যে আরো গভীর সম্পর্ক তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন দু’মন্ত্রী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কনফারেন্সের পর দেশের তিন উপজেলা থেকে সংযুক্ত জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলেন শেখ হাসিনা। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার আখাউড়া ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন যোগ দেন।

পরিত্যক্ত থাকা কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন পুনরায় চালু হওয়ায় কুলাউড়ার সাথে শাহবাজপুরের মানুষের যাতায়াত, পন্য পরিবহন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় হবে মন্তব্য করেন উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দে বিদ্যুৎ সংযোগ ও রেল যোগাযোগ সফলভাবে শুরু হওয়ায় দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ সংযোগ শুধু দু’দেশের নয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হলো। দু’দেশ উপকৃত হবে উল্লেখ করে তিনি দু’দেশের সীমান্তে পণ্য লোড আনলোড করার ক্ষেত্রে সহজীকরণ করার জন্য দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান বাংলার) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ঈদ ও শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ভাল থাকলে আমরা ভাল থাকি, আর আমরা ভাল থাকলে বাংলাদেশ ভাল থাকে। দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক অভিন্ন ও দৃঢ় উল্লেখ করে মমতা বলেন, ওগো মা তোমার দোয়ায় আজ খোলে গেছে উন্নয়নের দোয়ার।

অনুষ্ঠানে তিন প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরা হয়। কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুরের মধ্যে ৫৩ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন কাজে ব্যয় হবে ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৫৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা; আর ১২২ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার টাকার যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রকল্পের অধীনে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথে রেলসেতু, স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম, রেল লাইন এবং অন্যান্য রেল অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের কনফারেন্স কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম। উপকারভোগী আদিবাসী মহিলা উদ্যোক্তা ফ্লোরা বাবলি তালাং প্রধানমন্ত্রীর সাথে কনফারেন্সে কথা বলেন।
উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি, সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ এমপি, কুলাউড়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মতিন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী (অতিরিক্ত সচিব), মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ, সাধারন সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রাধাপদ দেব সজল, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ.স.ম কামরুল ইসলাম, বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলশান আরা মিলি, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র শফি আলম ইউনুছ, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহেল মাহমুদ, জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসিম চন্দ্র বনিক, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাদিউর রহিম জাদিদ, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম মুসা প্রমুখ। এছাড়াও রেলওয়ের বিভিন্ন স্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মী,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রধান,রেল শ্রমিকলীগের নেতৃবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

381 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ