অক্টোবর ১৩, ২০১৭ ১১:২৫ অপরাহ্ণ

অযত্নে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে সিলেট স্টেডিয়ামের গ্রিন গ্যালারি


গ্রিন গ্যালারি নয়, দেখে মনে হবে জঙ্গল। ঘাস আর আগাছা মাথা সমান উঁচু হয়ে আছে। ভেতরে ঢুকতে ভয় করবে যে কারো। অযত্ন আর অবহেলার কারণে এমন দশা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রিন গ্যালারির।

অথচ নির্মাণের পর এই গ্রিন গ্যালারিই ছিলো স্টেডিয়ামটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক। সংশ্লিষ্টরাও এ নিয়ে গর্বে কথা জানিয়েছিলেন। এশিয়ার প্রথম গ্রিন গ্যালারির কারণে সিলেট স্টেডিয়ামকে দেশের সুন্দরতম স্টেডিয়াম হিসেবেও দাবি করেছিলেন তাঁরা। অথচ উদ্বোধনের মাত্র তিন বছর পরই এমন বেহাল দশা সাধের গ্রিন গ্যালারির।

একদিকে ছোট-বড় টিলা, অন্যদিকে দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগান। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝখানেই সিলেটের লাক্কাতুরায় গড়ে উঠেছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। যেখানে রয়েছে এশিয়ার প্রথম ‘গ্রিন গ্যালারি’।

অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেডিয়ামগুলোর একপাশে দর্শকরা উন্মুক্ত মাঠে খেলা দেখেন। সেখানে শুয়ে-বসে খেলা উপভোগ করেন ক্রিকেটপ্রেমিরা। এখানকার ক্রিকেটপ্রেমিদের সেই সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে বিসিবি উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল এ ‘গ্রিন গ্যালারি’।  মাঠের পশ্চিমপাশের একটি টিলাকে কৃত্রিম উপায়ে গ্যালারির মতো করে তৈরি করা হয়েছিলো। ঘাস লাগিয়ে সবুজের গালিচায় রূপ দেওয়া হয়েছিলো গ্রিন গ্যালারিটিকে। আর উপরের দিকে উঠার জন্য মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। এছাড়া মাটির ধস ঠেকাতে প্রতিটি ধাপে ইট-কংক্রিটের ভিত্তিও দেওয়া হয়েছে।

২০০৭ সালে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নারীদের ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত এ ক্রিকেট ভেন্যুটির।

যাত্রা শুরুর আগে আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন কালে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে বলেছিলেন, ‘এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম।’ তার মতে, দক্ষিণ এশিয়াতে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মত এতো সুন্দর স্টেডিয়াম দ্বিতীয়টি নেই।’

 

অথচ এই গ্রিন গ্যালারির অবস্থা এখন বড় করুণ। সম্প্রতি সরেজমিনে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, নামে গ্রিন গ্যালারি হলেও বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। গ্রিন আছে যদিও কিন্তু গ্যালারির কোনো চিহ্ন মাত্র নেই। সবুজ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এ গ্যালারি। অযত্ন আর অবহেলায় গ্রিন গ্যালারি এখন দেখতে জঙ্গলের মতো।

এই গ্যালারিতে এখন বসার মতো অবস্থা নেই। সম্প্রতি এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আফগান যুবাদের সাথে বাংলাদেশ যুবাদের ৫ ম্যাচ সিরিজের লড়াই। ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে আয়ারল্যান্ড এ দলের সাথে বাংলাদেশ এ দলের চারদিনের একটি ম্যাচ। এই দুটি আয়োজনে গ্রিন গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ হয়নি দর্শকদের।

যুবাদের সিরিজে খেলা দেখতে এসে স্থানীয় দর্শক আবুল হাসান অনেকটা আফসোসের সুরে বলেন, গ্রিন গ্যালারি হচ্ছে এই স্টেডিয়ামের মূল আকর্ষণ; সেখানে বসে খেলা দেখার জন্যই তার মতো অনেক দর্শক মাঠে আসেন। কিন্তু সেই সুযোগ না পাওয়ায় অনেকটাই হতাশ তিনি।

ক্রীড়া লেখক সমিতির সিলেট বিভাগীয় কমিটির সহ সভাপতি মান্না চৌধুরী বলেন,  এই স্টেডিয়ামের মূল আকর্ষণই হচ্ছে গ্রিন গ্যালারি। পৃথিবীর কোনও গ্রিন গ্যালারিতেই সিঁড়ির মতো অবকাঠামো নেই। প্রাকৃতিক টিলার মতোই এর অবকাঠামো রাখা উচিত ছিলো। তবে, বর্তমান গ্যালারিটিকেও সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এই স্টেডিয়ামে যেহেতু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ম্যাচই আয়োজন করা হয়, তাই সবগুলো খেলাতেই দর্শকদের গ্রিন গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগের সুযোগ করে দেয়ার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। এতদিন ধরে কেন এই গ্যালারিটি পরিত্যক্ত হয়ে আছে এবং কে তার দায় নেবে এই প্রশ্ন তারও।

নভেম্বরে বিপিএল আসরের আগে গ্রিন গ্যালারি সংস্কার হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দ্বীপ দাশ সুজক জানান, ‘গ্রিন গ্যালারি সংস্কারের ব্যাপারে এনএসসি কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিপিএল আসরের আগেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এসে কাজ করবেন। গ্রিন গ্যালারির জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তার দাবি, গত ৬-৭ মাস অতিবৃষ্টির কারণে তেমন কোন সংস্কার করতে পারেননি; তবুও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ ছোটোখাটো সংস্কার কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম নাদেল  বলেন, আমরা বিপিএলের আগেই গ্রিন গ্যালারিটি দর্শক বসার উপযোগী করার চেষ্টা করবো। কিন্তু বিপিএল শুরু হওয়ার যেহেতু খুব বেশি সময় বাকী নেই, তাই এসময়ের মধ্যে হয়তো গ্রিন গ্যালারি পুরো প্রস্তুত করা যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ